প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে ১১% কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত: এএফইডি

স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)। একই সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ব্যালট গণনা শুরুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

এএফইডি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে ৩০ জন বগুড়া-৬ এবং ২৩ জন শেরপুর-৩ আসনে দায়িত্ব পালন করেন।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। তবে কিছু অনিয়মও চোখে পড়েছে। এএফইডির মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ জানান, প্রায় ১২ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি কেন্দ্রে শারীরিক সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রায় ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রচারণার সামগ্রী দেখা গেছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। ১২টি ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের কেন্দ্রের বাইরে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে এবং ১৫টি ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট প্রদানে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে আনার ঘটনাও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলে জানায় এএফইডি। পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল না।

শেরপুর-৩ আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি ব্যালট বাক্সে অতিরিক্ত ভোট প্রদান ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুললেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব ভোটারদের ওপর পড়েনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভোটগ্রহণ শেষে সারিতে থাকা সব ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে দ্রুত গণনা শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে এবং কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই গণনা শুরু হয়েছে। দুটি কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রেই ফলাফল প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়েছে, তবে চারটি ক্ষেত্রে এজেন্টদের আংশিকভাবে গণনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বগুড়া-৬ আসনে ডাকযোগে ভোটে অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। তিন হাজার ৭৩৬টি ব্যালটের মধ্যে ফেরত এসেছে এক হাজার ৬৮টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট যথাযথ ঘোষণাপত্র ছাড়া জমা পড়ায় কিছু বাতিল হয়েছে।

এএফইডি জানায়, ডাকযোগে ভোটের প্রক্রিয়া তুলনামূলক স্বচ্ছ হলেও অংশগ্রহণ ও নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে সংস্থাটি কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্র কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার, সব ভোটকেন্দ্রকে সবার জন্য প্রবেশযোগ্য করা, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং ডাকযোগে ভোটের পরিসর বাড়ানো।

এক প্রশ্নের জবাবে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন ও এএফইডির বোর্ড সদস্য তালেয়া রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী নির্বাচনে কিছু বিচ্যুতি থাকেই, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাইট যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং ডর্পের চেয়ারপারসন এইচ এম নওমান।

মন্তব্য করুন